নাটোরের লালপুরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা ভুক্তভোগীকে পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় তিন যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন লালপুরের ৬ রাস্তার মোড় মন্ডলপাড়ার মো. আশিক (২২), জৌতদৈবগী গ্রামের মো. শাকিল ইসলাম বাঁধন (২০) ও একই এলাকার মো. কাজল (২২)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে আশিকের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত শনিবার বিকেলে আশিক তাকে নিয়ে গ্রিন ভ্যালি পার্কে ঘুরতে যান। পরে অটোরিকশায় করে তারা লালপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠ এলাকার একটি স্থানে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে একটি ফাঁকা বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে আশিক ও তাঁর দুই সহযোগী তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাদের একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অটোরিকশায় করে তরুণীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরদিন রোববার দুপুরে ওই ভিডিও ভুক্তভোগীর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়। ভিডিওটি প্রকাশ না করার বিনিময়ে ১৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি এক প্রতিবেশীকে জানালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন এবং থানায় যোগাযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হেফাজতে নেয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী ও তাঁর এক স্বজন নিরাপদে রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য করুন