প্রাচীন সাহিত্য, আধুনিক ভাষা আর ভিন্নধর্মী সৃষ্টিশীলতার অনন্য মেলবন্ধনের স্বীকৃতি পেলেন কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন। ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে।

সুইডিশ অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, সমসাময়িক সাহিত্যে প্রাচীন ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরা এবং উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় লেখার মাধ্যমে আধুনিক সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করার জন্য কারসনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কারসন পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই কবিতা, অনুবাদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ক্লাসিকসের ওপর তাঁর গভীর গবেষণার পাশাপাশি প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক পাঠকের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপনের জন্যও তিনি পরিচিত।

কারসনের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের গভীরে গিয়ে তার উৎস ও অর্থ খুঁজে বের করা। প্রাচীন সাহিত্যকে সরাসরি অনুবাদ না করে তিনি অনেক ক্ষেত্রে সেটিকে আধুনিক ভাষা, মানবিক অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব সৃজনশীলতার সঙ্গে মিশিয়েছেন।

২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’-এ তিনি প্রাচীন গ্রিক কবি সাপফোর অসমাপ্ত কবিতাগুলো নতুনভাবে অনুবাদ করেন। একই ধারায় ‘ইলেক্ট্রা’, ‘অ্যান্টিগন’ ও ইউরিপিডিসের ‘বাক্খাই’-এর মতো প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যও তাঁর অনুবাদের মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

১৯৯৫ সালের ‘দ্য গ্লাস এসে’ এবং ১৯৯৮ সালের ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। বিশেষ করে ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’-এ প্রাচীন গ্রিক কবিতার খণ্ডাংশকে আধুনিক ভাষা ও মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি পাঠকের সামনে এক ভিন্নধর্মী সাহিত্যজগৎ তৈরি করেন।

পরবর্তী সময়েও প্রচলিত লেখার কাঠামো ভেঙেছেন কারসন। ‘ফ্লোট’ বইয়ে ২২টি ছোট পুস্তিকার মাধ্যমে পাঠককে নিজের মতো করে বইটি পড়ার সুযোগ দিয়েছেন। ‘রং নর্মা’য় আবার মঞ্চে উপস্থাপনযোগ্য ভিন্নধর্মী লেখা ব্যবহার করেছেন।

শুধু বইয়ের পাতায় নয়, অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। ফলে সাহিত্য, শিল্প ও একাডেমিক গবেষণার মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন এক সংযোগ।

গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।