ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ দেখা যাচ্ছে। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাডি আইজেনকোট। জনমত জরিপ ও অনলাইন পূর্বাভাসে এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে আইজেনকোটের পক্ষে। ফলে নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন, নাকি এবার তাকে সরে দাঁড়াতে হবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউওনের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানা রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মধ্যেও সরকার টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন নেতানিয়াহু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আকস্মিক হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ২৫তম নেসেট বা পার্লামেন্ট গত ১৭ জুলাই নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ শেষে বিলুপ্ত হয়। ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম দেশটির কোনো পার্লামেন্ট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার নজির গড়েছে। প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারও পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনার নজির রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়ে রেকর্ড সপ্তম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা এখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন। এবারের নির্বাচনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাডি আইজেনকোট। মাত্র এক বছর আগে গঠিত মধ্যপন্থি জায়নবাদী দল ‘ইয়াশার’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

অনলাইন পূর্বাভাসের বাজার পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় আইজেনকোট এগিয়ে রয়েছেন। ৭ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ের হিসাব অনুযায়ী, তার সম্ভাবনা প্রায় ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সম্ভাবনা ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

তবে এই পরিসংখ্যান প্রচলিত জনমত জরিপের ফল নয়। বরং পূর্বাভাসের বাজারে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে এই হিসাবও বদলে যেতে পারে। তাই আইজেনকোট এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।