লেবাননে প্রায় ৫০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। সোমবার তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা কাউকে করতে দেওয়া হবে না। বিস্ফোরকের চালানে সি-৪ থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে শনিবার এক বিচারিক সূত্র এএফপিকে জানায়, বিস্ফোরক গোপনে পরিবহনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লেবাননের কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার পূর্ব লেবাননের দাহর আল-বাইদার এলাকার একটি নিরাপত্তা তল্লাশিচৌকিতে বৈরুতগামী একটি গাড়ি থেকে এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

ওই সূত্রের দাবি, গাড়িটিতে ২৫০ কেজি টিএনটি-জাতীয় বিস্ফোরক এবং ২৫০ কেজি সি-৪ ছিল। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে সূত্রটি জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের একজন হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তার ছেলে এবং অন্যজনও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সদস্য। তবে বিস্ফোরকগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লেবাননের কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

লেবাননের বিচারমন্ত্রী আদেল নাসারও তদন্ত শেষ করা এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাতের পর লেবানন সরকার গোষ্ঠীটির অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তবে চলতি বছরের মার্চে ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে হিজবুল্লাহর ইসরায়েলে হামলার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়। পাল্টা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র ও রসদ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সিরিয়া দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষদিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষও লেবাননমুখী অস্ত্রের চালান আটকের খবর জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা লেবাননে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে।