আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে সতর্ক করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো একসময় তালেবানের নিজেদের শাসনের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সোমবার এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি কাবুলের প্রতি এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
দার বলেন, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কাবুল সফরের সময় আফগান প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে তিনি একই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে তারাই তালেবান সরকারের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে আফগান কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সীমান্তে বারবার সংঘর্ষ এবং আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তঃসীমান্ত সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং আল-কায়েদার আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলোর তৎপরতা পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানের ভাষ্য, এসব গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানবিরোধী জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।
দার বলেন, কাবুলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ২০২৫ সালে তিনি তিনবার আফগানিস্তান সফর করেন। ওই সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার রেলপথ নির্মাণ নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে দারের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গিরা পাকিস্তানের সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর পর সীমান্তের ওপারে ফিরে যায়।
একই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ২ হাজার ৮০০টির বেশি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় প্রায় ৩০০ জন হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, আফগানিস্তানে ৬ হাজারের বেশি টিটিপি যোদ্ধাসহ মোট ২০ হাজারের বেশি জঙ্গি অবস্থান করছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পাকিস্তান বলছে, তারা একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ আফগানিস্তান চায়। তবে সীমান্তপারের হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন কঠিন হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দার। অন্যদিকে, জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাবুল। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।



মন্তব্য করুন