ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রবিবার গাজা যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত পুরস্কারজয়ী তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA)-তে উঠে আসা বেনামী সূত্রগুলোর বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ছবিটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ২৪ জন নাম-পরিচয় গোপন রাখা ‘হুইসেলব্লোয়ার’ বা তথ্য ফাঁসকারীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, সেনাবাহিনী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করে গাজায় বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আজ সন্ধ্যায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ, শিন বেট (অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা)-এর প্রধান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁরা ‘নাজা’ ছবির অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেন এবং তাঁদের বিচারের আওতায় আনেন।”
‘নাজা’ নামটি এসেছে বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত ইসরায়েলি সামরিক পরিভাষা থেকে; এটি হিব্রু ভাষায় ‘কোলাটেরাল ড্যামেজ’ বা ‘পার্শ্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতি’ বোঝানো শব্দগুচ্ছের সংক্ষিপ্ত রূপ।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়া এই ছবিটি প্রদর্শনের পর দর্শকরা দাঁড়িয়ে ২৫ মিনিট ধরে করতালি দিয়ে সম্মান জানান, যা ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা; তবে ইসরায়েলে এটি তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী নেতানিয়াহু বলেন, “এই ছবিটি একটি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট কাহিনী তুলে ধরেছে, যা বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীকে হেয় প্রতিপন্ন করছে।” এর আগেও তিনি এমন আইন প্রণয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যার মাধ্যমে সৈন্যদের ‘হেয় প্রতিপন্ন’ বা ‘মানহানি’ করা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ছবিটিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তথ্য প্রদানকারী বেনামী ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
হামাসের ৭ অক্টোবর, ২০২৩-এর প্রাণঘাতী হামলার জবাবে শুরু হওয়া ইসরায়েলের গাজা সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া, যা হামাস কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হলেও জাতিসংঘ তাদের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা স্বীকার করে।



মন্তব্য করুন