ছবি: -সংগৃহীত
ভারতে তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং শিক্ষাব্যবস্থা ঘিরে ক্ষোভ নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেকারত্ব, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দেশটির তরুণদের একটি অংশ এখন আরও সোচ্চার হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ভারতের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ আসলে কী চায় এবং তাদের আন্দোলন কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে তরুণদের নেতৃত্বে বড় ধরনের গণআন্দোলন দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে আন্দোলনের পেছনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনার পর ভারতের তরুণ সমাজের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রত্যাশা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে সামনে রেখে জনসমর্থন ধরে রেখেছে বিজেপি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল এবং বিভিন্ন ইস্যুতে তরুণদের প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নতুন প্রজন্মের একটি অংশ কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও জবাবদিহিতার মতো বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী আন্দোলন আলোচনায় এসেছে। অনলাইনে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ ধীরে ধীরে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেয়। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত তাদের সাম্প্রতিক সমাবেশে হাজারো তরুণের অংশগ্রহণ বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট ও অনিয়মের কারণে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ। পাশাপাশি শিক্ষাবিদ ও সামাজিক কর্মীদের একটি অংশও তরুণদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংবিধানিক কাঠামো এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। তা সত্ত্বেও তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারে থাকলেও লোকসভায় দলটির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোটসঙ্গীদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তরুণদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক সক্রিয়তা আগামী দিনে সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হবে এবং তা জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আগামী মাসগুলোতে তরুণদের দাবির প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এ প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে।