জসিমের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে স্ত্রী রুমা আক্তার এখন তিন মেয়েকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায়। বড় মেয়ে জাকিয়ার বিয়ে হয়েছে। মেজ মেয়ে আয়েশা ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে জেসিয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকায় প্রায় চার লাখ টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হন জসিম। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কয়েক দিন পর মরুভূমির বালুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, জসিমকে হত্যার পর মরদেহ বালুচাপা দেওয়া হয়। পরে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সাব্বির নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে সৌদি পুলিশ। দেশে এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মর্তুজা মাহবুব জানান, জসিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পর মরদেহ ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মরদেহ দেশে ফেরাতে সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। জানাজা শেষে প্রতিমন্ত্রী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এদিকে জসিমের স্ত্রী রুমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিন মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন