শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সন্ধ্যায় নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত পাঁচজন হলেন নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁয়। ঘটনার ১৮ দিন পর প্রথম দফায় সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়। তবে আগুনে মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় বাকিদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পৌনে তিন মাসের মাথায় বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে ফেরে। তাদের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁর, দুজন নাটোরের।
নিহত শাহিনের মা নার্গিস বেগম জানান, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে এনজিও থেকে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন ছেলের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ এবং দুই নাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
মিনহাজের মা পারুল বিবির অপেক্ষা ছিল, দুই বছর পর ছেলে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ফিরেছে নিথর দেহ। সাগর আলীর স্ত্রী পারভীন খাতুনও সাড়ে ছয় লাখ টাকা ঋণ করে স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কীভাবে চলবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা তিনি।
পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, নিহতদের প্রায় সবাই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে স্বজনরা একদিকে হারিয়েছেন প্রিয়জন, অন্যদিকে মাথায় চেপেছে ঋণের বোঝা।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, দাফন-কাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে পরিবারপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা খরচে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন