ছবি: -সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৩২ দলের বদলে অংশ নেবে ৪৮টি দল এবং ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০৪-এ। ফলে খেলোয়াড় ও কোচদের সামনে রেকর্ড গড়ার সুযোগও আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। অনেক পুরোনো মাইলফলক এবার নতুন করে লেখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী কোচের রেকর্ড এখন জার্মানির হেলমুট শেনের দখলে, যার জয় ১৬টি। তবে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশম ইতোমধ্যেই ১৪টি জয় নিয়ে তার খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন। ফ্রান্স যদি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করে, তাহলে এই আসরেই তিনি নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন।
এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও এবার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মোট ১৭২ গোল হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। কিন্তু এবার ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ায় এই রেকর্ড ভাঙা প্রায় সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও এবারের বিশ্বকাপকে আলাদা করে তুলবে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যা এবার রেকর্ড ছুঁতে বা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই তালিকায় আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লুকা মদ্রিচ, ম্যানুয়েল নয়্যার, গুইলের্মো ওচোয়া এবং এদিন জেকো। এত বেশি অভিজ্ঞ তারকার একসঙ্গে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আগে কখনও দেখা যায়নি।
সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডগুলোর একটি হলো বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড, যেখানে ১৬ গোল নিয়ে শীর্ষে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসে। এই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি আছেন লিওনেল মেসি (১৩ গোল) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে (১২ গোল)। বিশেষ করে এমবাপ্পে তরুণ হওয়ায় তার সামনে এই রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে, এমনকি এবারের আসরেই ইতিহাস বদলে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এছাড়া সর্বকনিষ্ঠ গোল্ডেন বুট জয়ীর রেকর্ডও হুমকির মুখে। ২০১০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে এই পুরস্কার জিতেছিলেন টমাস মুলার। এবার এই রেকর্ড ভাঙার সবচেয়ে আলোচিত নাম স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল, যিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং নতুন ইতিহাস, নতুন রেকর্ড এবং ফুটবলের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার এক বিরল মঞ্চ।