https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারঘেঁষা বগলদাবা বিরোধী দলও নয়, আবার অকারণ বর্জন ও সংঘাতের রাজনীতিও নয়— জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করেই সংসদে তাদের অবস্থান নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না। আবার এমন কিছু করবো না, যাতে জনগণের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন করবো, আর প্রয়োজন হলে কঠোর সমালোচনাও করবো।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সাধারণত দুই ধরনের বিরোধী দল দেখা গেছে— একদল সরকারের ছায়াতলে থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে, আরেক দল সংসদ বর্জন ও অচলাবস্থার রাজনীতিতে জড়িয়েছে। জামায়াত এই দুই পথের কোনোটিই অনুসরণ করবে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করতে হলে জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে। ইতোমধ্যে তাদের দল প্রবাসীদের দুর্ভোগ, ব্যাংকিং খাতের সংকট, সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু এবং গণভোটের ফল বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে নোটিশ দিয়েছে।
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে একটি সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সীমান্তে পুশইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। নোটিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু আমরা তা করিনি। জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।
সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনাও সমালোচনার মুখে পড়ে তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী মার্চ মাসে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপনের কথা থাকলেও তা জুনের মাঝামাঝি সময়ে আনা হয়েছে, যা জবাবদিহিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার জন্য ভালো বার্তা নয়।
তার ভাষায়, অর্থবছরের শেষদিকে তড়িঘড়ি করে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন তিনি।
দেশের আর্থিক পরিকল্পনা আরও কার্যকর করতে অর্থবছরের সময়সূচি জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারি করার প্রস্তাবও দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সংসদীয় আচরণ নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা কিংবা রাজনৈতিক স্তুতিবাদে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জনগণের সমস্যা, অধিকার ও প্রত্যাশার কথাই সংসদ সদস্যদের প্রধান আলোচ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে আমরা ওয়াকআউট করবো, কিন্তু বছরের পর বছর সংসদ বর্জনের রাজনীতি করবো না। সংসদে থেকেই জনগণের পক্ষে লড়াই করতে চাই।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল সংশোধনের নয়, বরং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে। এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব এলে দল তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।