চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আয়াতকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত বলে রায় দেন।
তিনি আরও জানান, আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর ও নৃশংস এবং এটি সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দেন এবং যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকায় পাঁচ বছরের শিশু আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে উঠে আসে, অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় পরিবারের ভাড়াটে মো. আবির জড়িত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হলেও পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক সহযোগীকে আসামি করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দ্বিতীয় আসামির বিচার শিশু আদালতে পৃথকভাবে চলছে।

মন্তব্য করুন