https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে তাঁর এক মন্তব্য। সেই মন্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি। ঘটনাটি ওয়াশিংটন ও রোমের সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া ট্রাম্পের সাক্ষাৎকার থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেলোনি অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি অনুগ্রহ করেই তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, মেলোনি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পেরে খুশি হতে পারেন, তবে তাঁর নিজের সেই প্রয়োজন ছিল না।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইতালিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। জর্জিয়া মেলোনি প্রকাশ্যে মন্তব্যটিকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তিনি বা ইতালি কখনো কারও কাছে অনুগ্রহ চায়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে এমন আচরণ করেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এই বিতর্কের মধ্যেই ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি নিজের নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে শুধু মেলোনির নয়, পুরো ইতালির প্রতি অপমানজনক বলেও মন্তব্য করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত বাকবিতণ্ডা নয়; বরং ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান দূরত্বের প্রকাশ। একসময় ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন মেলোনি। এমনকি ২০২৫ সালে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় সরকারপ্রধানও ছিলেন তিনি।
তবে ইরান ইস্যুতে দুই নেতার অবস্থান ভিন্ন হওয়ার পর থেকেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন মেলোনি। পরে ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করেন এবং বলেন, তিনি ভেবেছিলেন মেলোনির আরও সাহসী অবস্থান থাকবে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাও তুলে ধরছে। একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে আগ্রহী ইউরোপীয় নেতারা এখন বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাতে শুরু করেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপের অনেক দেশ এখন নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও স্বাধীনভাবে নির্ধারণের চেষ্টা করছে, আর ট্রাম্প–মেলোনি বিরোধ সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই একটি প্রতিফলন।