https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে আবারও সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের উপকূলীয় রাডার সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগারে অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো হামলা হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে ড্রোন হামলার পর। এ ঘটনাকে চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, চলমান সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধারের জাতিসংঘের অভিযানও স্থগিত করা হয়েছে। যদিও হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি তেহরান।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল সচল রাখতে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। দেশটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।