https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল পরিষেবা কর (ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স) আরোপকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এমন কোনো দেশ এই কর কার্যকর করলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা তাদের সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ডিজিটাল কর চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে কয়েকটি দেশ এটি বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি রয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি এই ধরনের কর আরোপ করে, তাহলে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্কের আওতায় আসবে। ট্রাম্পের দাবি, এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতের যেকোনো বাণিজ্য চুক্তিও কার্যত অকার্যকর হয়ে যাবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। গত বছর দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন শিল্পপণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তুষ্ট হয়ে ট্রাম্প এর আগেও ইউরোপীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
বিশেষ করে ফ্রান্সের অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তি আরও স্পষ্ট। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়ে দেন, মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না তাদের সরকার এবং মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর আরোপিত ডিজিটাল করও প্রত্যাহার করা হবে না।
এর জবাবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ফ্রান্স যদি ডিজিটাল কর বাতিল না করে, তাহলে ফরাসি মদের ওপরও ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ফ্রান্স ২০১৯ সাল থেকে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডিজিটাল সেবার আয়ের ওপর ৩ শতাংশ কর আরোপ করে আসছে। গত বছর দেশটির আইনপ্রণেতারা সেই হার ৬ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন। ফ্রান্স ছাড়াও যুক্তরাজ্য, স্পেন, অস্ট্রিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের ডিজিটাল কর চালু করেছে বা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের (ইউএসটিআর) দাবি, এসব ডিজিটাল কর মূলত বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। আর সে কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন।