https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রাজধানীর মহাখালীতে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার আলোচিত মামলায় ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। হত্যার দায়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মরদেহ গুমের অপরাধে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির জানান, হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফাতেমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি মরদেহ গুমের অভিযোগেও পৃথক সাজা দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকা থেকে একটি পানির ড্রামের ভেতর মাথাবিহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই রাতে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় মরদেহের দুই হাত ও দুই পা। পরদিন উদ্ধার হয় মাথাসহ বাকি অংশ। সব মিলিয়ে মরদেহ ছয় টুকরো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে জানা যায়, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক বিরোধ এবং স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে ফাতেমা পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশাচালক স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর গলা কেটে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ছয় টুকরো করে বিভিন্ন ব্যাগ ও একটি ড্রামে ভরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, মরদেহের মূল অংশ একটি ড্রামে রেখে আমতলী এলাকায়, দুই হাত ও দুই পা একটি ব্যাগে ভরে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে এবং মাথা পৃথক একটি ব্যাগে করে গুলশান লেক এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় ২০২১ সালের ১ জুন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২৩ সালের ১২ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে ফাতেমা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।