https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রিটিশ হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৪১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৮৮৪ জন অনিয়মিত অভিবাসী ছোট নৌকায় করে ব্রিটিশ উপকূলে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ৯৮২ জন।
এমনকি ২০২৪ সালের প্রথমার্ধের তুলনায়ও এবার অভিবাসী আগমন ১২ শতাংশ কমেছে। সে সময় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন ১৩ হাজার ৪৮৯ জন।
অভিবাসী আগমন কমার এই প্রবণতাকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দলটি অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানবপাচারকারী চক্র দমনে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার শাসনামলে ২০২৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অভিবাসী আগমন ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
এদিকে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের উত্থাপিত প্রস্তাবে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, শরণার্থী মর্যাদাকে অস্থায়ী করা এবং আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের আপিলের সুযোগ সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মানবপাচার রোধে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে জার্মানি ও ইরাকসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। পাশাপাশি চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্রান্সের সঙ্গে তিন বছরের একটি চুক্তি সই হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় ছোট নৌকা যেসব সৈকত থেকে যাত্রা শুরু করে, সেখানে নজরদারি ও টহল বাড়াতে ফ্রান্সকে ৬৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য।