দুই গোল পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৩ মিনিটে টানা তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড অথবা কলম্বিয়া।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে ইয়াসির ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় মিশর।
পাঁচ মিনিট পর সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় দলটি। তবে ২১তম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস।
এরপরও একের পর এক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ ও মেসির একাধিক প্রচেষ্টা রুখে দেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মোস্তফা। ফলে প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিশর।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তবে ৬৭তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ করে মিশর। এর আগে একই ধরনের আরেকটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়েছিল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যেন বদলে যায় আর্জেন্টিনা। হাইড্রেশন ব্রেকের পর তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং মাত্র ১৩ মিনিটে ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয়।
৭৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো হেড করে ব্যবধান কমান। পাঁচ মিনিট পর নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন মেসি। তার জোরালো শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে ক্রসবার ছুঁয়ে জালে জড়ালে ২-২ সমতা ফেরে। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার অষ্টম গোল, পাশাপাশি টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আসে নাটকীয় মুহূর্ত। লাউতারো মার্টিনেজের দারুণ ক্রসে এনজো ফার্নান্দেজ অসাধারণ হেডে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোলের আগে ফাউলের দাবিতে মিশরের খেলোয়াড়দের তীব্র প্রতিবাদ ও টাচলাইনে উত্তেজনা তৈরি হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর গোল বহাল থাকে।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। দুই গোল পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

মন্তব্য করুন