উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮, জীবিত উদ্ধার ১৪
ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ ৪৬ বার পঠিত
ছবি: -সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মাদরাসাছাত্রী। একই ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্ধার অভিযান বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয়। শুরুতে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানানো হলেও পরবর্তী অভিযানে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) এবং উমাইসা বিবি (১৩)। এর মধ্যে উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন এবং তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা। অপর দুইজন ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসনের আওতাধীন সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় অনেকেই বেরিয়ে গেলেও পাহাড়ঘেঁষা একটি কক্ষে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। এতে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসা ছুটি হওয়ার আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি ছিল। ঠিক তখনই পাহাড় ধসে ভবনটির একটি অংশ চাপা পড়ে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর আগে গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়ার তিনটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ এ ঘটনাসহ টানা ভারী বর্ষণে গত তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।