ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে ঐতিহাসিক এই জয়ের আনন্দের মধ্যেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে মাঠে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি সমর্থন করে ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে একটি ব্যানার হাতে উদযাপন করেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে ডাকা হয় এবং দেশটি দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপপুঞ্জটির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়ে আসছে।

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে রয়েছে। এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে ৬৫৫ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনাসহ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ফলে বিষয়টি এখনো দুই দেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী, ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শন করায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু হতে পারে। তদন্ত শেষে প্রয়োজন মনে করলে আর্থিক জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ফিফার।

এ ধরনের ঘটনায় এর আগেও শাস্তির মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই বার্তাসংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে প্রায় ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা। এবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। তিনি আরও লেখেন, ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার এবং স্টেডিয়ামে ব্যানার নেওয়া নিষিদ্ধ করা গেলেও সেই বিশ্বাস আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয় ও রক্তে বহমান।

এর আগে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমে ফকল্যান্ড যুদ্ধের উল্লেখ থাকা একটি গান গাইতে দেখা যায়। ফলে ফাইনালের আগে এই নতুন বিতর্ক আর্জেন্টিনা শিবিরে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শাস্তির ঘোষণা দেয়নি। তদন্ত শেষে সংস্থাটির শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।