১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও আক্রমণাত্মক ফুটবল ছেড়ে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেওয়ার মূল্য চুকাতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। থমাস টুখেলের কৌশলগত ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ মুহূর্তে ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
গ্যারেথ সাউথগেটের উত্তরসূরি হিসেবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেন জার্মান কোচ থমাস টুখেল। নকআউট ম্যাচে কৌশলগত দক্ষতার জন্য পরিচিত এই কোচের কাছ থেকে বড় প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে সেই কৌশলই ইংল্যান্ডের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
অ্যান্থনি গর্ডনের ৫৫ মিনিটের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের সামনে ছিল পাল্টা আক্রমণের সুবর্ণ সুযোগ। আর্জেন্টিনা গোল শোধে মরিয়া হয়ে সামনে উঠে আসায় তাদের রক্ষণেও ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে টুখেল পুরো দলকে নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বেঞ্চে থাকা বুকায়ো সাকা, ননি মাদুয়েকে কিংবা মার্কাস রাশফোর্ডের মতো গতিময় ফুটবলারদের নামিয়ে আর্জেন্টিনার ওপর চাপ ধরে রাখার পরিবর্তে তিনি রক্ষণ আরও শক্ত করেন। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় লিওনেল মেসিদের হাতে।
৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে আর্জেন্টিনার অবিরাম আক্রমণের মুখে ভেঙে পড়ে ইংলিশ রক্ষণ। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। এরপর যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেসের হেডে আসে জয়সূচক গোল।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল দ্বিতীয়ার্ধের কুলিং ব্রেকের পর টুখেলের সিদ্ধান্ত। তিনি গর্ডনকে তুলে এজরি কনসাকে নামিয়ে তিন সেন্টার-ব্যাকের সঙ্গে পাঁচজনের রক্ষণ সাজান। পরে ড্যান বার্নকে নামিয়ে দলকে আরও রক্ষণাত্মক ৫-৪-১ ছকে নিয়ে যান। এতে বক্সের বাইরের জায়গা পুরোপুরি আর্জেন্টিনার দখলে চলে যায় এবং মেসি সহজেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন।
বিশেষ করে লিয়েন্দ্রো পারেদেস মাঠ ছাড়ার পর এবং নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হিসেবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ নামায় আর্জেন্টিনার রক্ষণে গতির বিপক্ষে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর কোনো চেষ্টা করেনি ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শেষ ভাগে প্রায় পুরো খেলাই হয়েছে জর্ডান পিকফোর্ডের গোলপোস্টের সামনে। পিকফোর্ড কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার চাপ সামলানো সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, টুখেলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। ম্যাচে এগিয়ে থেকেও আক্রমণের ধার বজায় রাখার বদলে নিজেদের বক্সে গুটিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ‘নিজেদের পায়ে কুড়াল মারা’র শামিল হয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্নও তাই শেষ হয়ে যায় শেষ সাত মিনিটের নাটকীয় ধসে।

মন্তব্য করুন