গোলের খাতায় নাম ওঠেনি, কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন লিওনেল মেসি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে তুলেছেন এই মহাতারকা।

ম্যাচের প্রথম ৫৫ মিনিট পর্যন্ত মেসিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে তার চলাচল সীমিত করে রাখায় আর্জেন্টিনাও তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

গোল হজমের পর কৌশলে পরিবর্তন আনেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি মেসিকে ডান প্রান্তে সরিয়ে দেন। এই পরিবর্তনই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।

আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও ম্যাচ শেষে বলেন, মেসিকে ডান দিকে খেলানোর সিদ্ধান্তই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে বড় মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

এদিকে লিড ধরে রাখতে আরও রক্ষণাত্মক কৌশল নেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে দলকে নিজেদের অর্ধে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত উল্টো কাল হয়ে দাঁড়ায়। এতে বলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার দখলে।

পরিসংখ্যানও সেই আধিপত্যের প্রমাণ দেয়। ৫৫ থেকে ৯২ মিনিট পর্যন্ত সময়ের ৮৮ শতাংশ বলের দখল ছিল আর্জেন্টিনার। আর ৬৬ থেকে ৮৪ মিনিটের মধ্যে ইংল্যান্ড মাত্র দুটি সফল পাস দিতে সক্ষম হয়।

এই সময়টাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন মেসি। একের পর এক ড্রিবল, নিখুঁত পাস ও আক্রমণাত্মক উপস্থিতিতে তিনি ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার বিপাকে ফেলেন।

ম্যাচে মেসি একাই সফলভাবে ৯টি ড্রিবল করেন, যেখানে পুরো ইংল্যান্ড দল মিলে সফল ড্রিবল করেছে মাত্র ৭টি। ইংল্যান্ডের বক্সে তার স্পর্শ ছিল ৭ বার, যা পুরো ইংল্যান্ড দলের সমান। এছাড়া তিনি ৪টি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেন এবং ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯টি ক্রস দেন।

আর্জেন্টিনার দুই গোলেই ছিল তার সরাসরি অবদান। ৮৫ মিনিটে তার কর্নার থেকে পাওয়া বলে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। আর যোগ করা সময়ে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস বলেন, মেসি মাঠে অনেক সময় হেঁটে বেড়ালেও বল পায়ে পেলেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। আর এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টের মতে, ইংল্যান্ড নিজেদের রক্ষণ শক্ত করতে গিয়ে উল্টো মেসিকে খেলার স্বাধীনতা দিয়ে দেয়। শেষ ১৫ মিনিটে একাই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনও স্বীকার করেছেন, দীর্ঘ সময় মেসিকে আটকে রাখা গেলেও সুযোগ পেলেই তিনি ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছেন। তার ভাষায়, ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশিত।

গোল না করেও দুই অ্যাসিস্ট, অসাধারণ সৃজনশীলতা এবং পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে লিওনেল মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা।