২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মধ্যেই লিওনেল মেসিকে ঘিরে ব্যালন ডি’অর নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। পুরস্কারটির অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম সম্প্রতি এক ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবে খেললেও ব্যালন ডি’অর জেতা সম্ভব। আর এই ঘোষণার সময় নিয়েই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

বিশেষ করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পরদিনই ব্যাখ্যাটি প্রকাশ হওয়ায় অনেকের ধারণা, এটি ইন্টার মিয়ামিতে খেলা লিওনেল মেসিকে ঘিরেই দেওয়া একটি পরোক্ষ বার্তা।

অবশ্য ইউরোপের বাইরে কোনো ক্লাবের হয়ে খেলতে খেলেই প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের নজির গড়েছিলেন মেসি নিজেই। ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার কয়েক মাস পর ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। পুরুষদের ফুটবলে তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি ইউরোপের বাইরের একটি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে এই সম্মান অর্জন করেন।

নারী ফুটবলে একই কীর্তি প্রথম গড়েন যুক্তরাষ্ট্রের মেগান রাপিনো। ২০১৯ সালে সিয়াটল রেইনের হয়ে খেলতে খেলেই তিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।

ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবে খেললেও এই পুরস্কার জেতার সুযোগ পুরোপুরি রয়েছে। অতীতে এমন ঘটনা বিরল হলেও বিশ্বের বিভিন্ন লিগের মানোন্নয়নের কারণে এখন আর বিষয়টি অসম্ভব নয়। একজন ফুটবলার যে লিগেই খেলুন না কেন, তার পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হবে।

এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন।

শুধু গোলই নয়, নকআউট পর্বেও দলের সাফল্যে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

বিশ্বকাপে মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কি আবারও সবচেয়ে এগিয়ে লিওনেল মেসি?