ঢাকা
২৬ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম! আগামী বছরই রাজশাহী নগরবাসী পাবেন প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি একরাম হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ যুদ্ধ ও যুদ্ধবিরতির সময় ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি ইরানের মালদ্বীপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সম্মানে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর চা-চক্র ফেসবুক-গুগলের বিজ্ঞাপনে আসছে নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন দেশের ১২ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ তারেক রহমানের তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংকটে ইরানে হামলা থামিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র : নিউইয়র্ক টাইমস

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম!

ডেস্ক রিপোর্ট
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬   ৯ বার পঠিত
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম!

ছবি: -সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই অবকাঠামো প্রকল্পে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ, বিলম্বিত কাজের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় না করা এবং বিভিন্ন খাতে অযৌক্তিক ব্যয়সহ মোট ২৭টি অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অনিয়মে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪ হাজার ৪৬৯ কোটি ৯ লাখ ৩১ হাজার ৭৬৬ টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সবচেয়ে বড় আপত্তি উঠেছে ভেরিয়েশন কাজের ব্যয় নিয়ে। নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, যথাযথ সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কনসালট্যান্টের অনুমোদনের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ১৯ লাখ ৭১ হাজার ১২১ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চুক্তির বিধান অনুসরণ করা হয়নি এবং অনুমোদনের সীমাও অতিক্রম করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ওজন দেখিয়ে ১২২ কোটি ৭১ লাখ টাকার বেশি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া সিরামিক ডাক্টের পরিবর্তে কংক্রিট ডাক্ট ব্যবহার করে প্রকৃত সাশ্রয় না হলেও ‘ভ্যালু ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর নামে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত ৭০ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

মাটি অপসারণের কাজেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী মাটি সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে ফেলার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দুই কিলোমিটারের মধ্যেই ফেলা হয়েছে। কিন্তু বিল করা হয়েছে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দূরে পরিবহনের হিসাব ধরে, যার মূল্য প্রায় ৮৩ কোটি টাকা।

চুক্তির বাইরে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও নিরীক্ষায় উঠে এসেছে। পরামর্শকদের জন্য অতিরিক্ত বিমানভাড়া, গাড়িভাড়া এবং চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকা পরামর্শকদের সম্মানী বাবদ কয়েক কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত দেশের পরিবর্তে অন্য দেশ থেকে নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ এবং চুক্তিবহির্ভূত নির্মাণকাজের বিল পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের অন্যতম বড় পর্যবেক্ষণ হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না হলেও ঠিকাদারের কাছ থেকে বিলম্বজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়নি। এতে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৫৫৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ‘ক্যাচ-আপ কস্ট’ ও ‘মুভ ফরোয়ার্ড কস্ট’ বাবদ আরও ২১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যদিও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব ব্যয়ের যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি।

সফট ওপেনিং বা আংশিক উদ্বোধনের জন্যও প্রশ্ন তুলেছে নিরীক্ষা দল। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) কিংবা মূল চুক্তিতে এ ধরনের ব্যয়ের কোনো সংস্থান না থাকলেও ঠিকাদারকে ৪৪ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার টাকার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত জনবল ও অন্যান্য ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তারও যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পে গাছ কেনার ব্যয়ও আলোচনায় এসেছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৮০টি গাছের জন্য ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এতে প্রতিটি গাছের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার ৮৫১ টাকা। অথচ স্থানীয় নার্সারিতে একই ধরনের গাছের চারা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। নির্ধারিত উচ্চতার গাছ সরবরাহ না করেও পূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া সাব-কন্ট্রাক্টরের প্রস্তাবিত মূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য যোগ করে বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। ভেরিয়েশন বিলে আয়কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, মূল্য সমন্বয়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও নিরীক্ষায় উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্বল তদারকি, প্রশাসনিক অনুমোদনের ঘাটতি, ঠিকাদারের দাবির যথাযথ যাচাই-বাছাই না করা এবং উন্নয়ন সহযোগী, পরামর্শক ও ঠিকাদার একই দেশের হওয়ায় কার্যকর চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।

নিরীক্ষা অধিদপ্তর আপত্তিকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আদায়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি কোষাগারে প্রাপ্য অর্থ জমা নিশ্চিত এবং দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা, পরামর্শক ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের মেগা প্রকল্পে চুক্তির শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ, ভেরিয়েশন অনুমোদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বিল পরিশোধের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয়-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত। সূত্র : প্রথম আলো

July 2026
SMTWTFS
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031