https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ ধরে এগোতে চাইলেও এখন একযোগে তিন দিকের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে সৌদি আরব। ইরান, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকভিত্তিক ইরানপন্থি মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক হামলার জেরে শেষ পর্যন্ত সামরিক জবাব দিতে শুরু করেছে রিয়াদ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে আকাশপথে হামলা চালায় সৌদি যুদ্ধবিমান। সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর উপকূলে সৌদির তেল স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে এশিয়ামুখী জ্বালানি রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে দুই পক্ষের সংঘাত কমেছিল, তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি।
এদিকে সোমবার ও মঙ্গলবার ইরাকভিত্তিক ইরানসমর্থিত মিলিশিয়ারা রিয়াদসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা চালায়। এর জবাবে সৌদি আরব ইরাকের পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালায়। ইরাকি মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে এতে হতাহতের দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের সমর্থনে পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরান, অন্যদিকে হুথি ও ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাপ—এই ত্রিমুখী নিরাপত্তা সংকট সৌদি আরবকে নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণে বাধ্য করছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক চাপ, বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রিয়াদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দীর্ঘদিন যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব এখন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে সক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথে এগোচ্ছে।