https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমার-আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে নগর ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে নগর ও গ্রামীণ—উভয় ধরনের সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। ফলে অনেকেই এখনো নগরজীবনের নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন। তাই পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে আচরণগত পরিবর্তন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষ যখন জানে আইন ভঙ্গ করলে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই নিয়ম মেনে চলে। রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা বা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সিটি করপোরেশন, রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও সক্ষম করে তুলতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক প্রচারণা এবং স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচির মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বস্তি এলাকাসহ নগরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, একসময় নদীর পানি ছিল স্বচ্ছ ও নির্মল, কিন্তু বর্তমানে এর তলদেশে প্রায় ছয় মিটার পুরু বর্জ্যের স্তর জমে রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, সরকার নদী পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এবং তুরাগ নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ঢাকার টেকসই ভবিষ্যৎ চারপাশের নদীগুলোর সুস্থতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি ঢাকায় সরবরাহের একটি প্রকল্প প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকা পরিবেশ, অর্থনীতি এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য সুফল পাবে। তিনি বলেন, সরকার ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।