https://timenewsbangla.com

দেশে উৎপাদনযোগ্য কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন বেড়ে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি গবেষণায় বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত এবং এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে তুলে ধরা হয়। শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, দেশীয় কৃষিযন্ত্র উৎপাদন এবং কৃষকদের কাছে আধুনিক যন্ত্র সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সৌর সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
প্রধানমন্ত্রী কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি ও সেচসুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেন।