কুমিল্লায় ১৩ বছরের স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও ঘটনার নানা তথ্য উঠে এসেছে।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অপ্রতিমের সঙ্গে আসামিদের পরিচয় হয়েছিল ছবি তোলা ও টিকটক তৈরির সূত্রে। ঘটনার আগের দিন টিকটকের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করেন এক আসামি।
১৮ সেপ্টেম্বর ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চারজন কিছু সময় গল্প করেন। পরে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়া হয়। ফোন ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তুহিনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।
জবানবন্দিতে তিন আসামিই দাবি করেছে, তুহিন প্রথমে অপ্রতিমকে থাপ্পড় দেন এবং পরে পাশে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এরপর অন্য দুজনকেও মারতে বলেন। পরে অপ্রতিম মারা যান।
তিনজনের বক্তব্যে আরও এসেছে, আইফোনটি বিক্রি করে টাকা ভাগ করার পরিকল্পনা ছিল। হত্যার পরও ফোনটি তুহিনের কাছেই ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হত্যার পর কে কোথায় গিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
এদিকে তুহিনের জবানবন্দিতে তাঁর বন্ধু সিয়ামের নামও এসেছে। তুহিন দাবি করেছেন, হত্যার পর তিনি সিয়ামকে ফোন করে ঘটনা জানান। পুলিশ পরে সিয়ামকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে। তবে অন্য দুই আসামির জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনায় সিয়ামের সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আসামিদের বক্তব্য অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তাধীন। চূড়ান্ত দায় ও ভূমিকা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়।

মন্তব্য করুন