সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ইরানের দেওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে ইরান সাত দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দেয়। নতুন আলোচনায় ওই প্রস্তাবের সংশোধিত রূপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরবর্তী যেকোনো আলোচনার প্রধান বিষয় হবে এই সংশোধিত প্রস্তাব।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান যেসব শর্ত দিয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই সমঝোতা বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরান ইতোমধ্যে সে ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে এসব আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর থেকে সাত মাসের যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই দফা সমঝোতা হয়েছিল। এপ্রিল ও জুনে হওয়া ওই চুক্তিগুলো অবশ্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এবং দ্রুত ভেঙে যায়।

নতুন করে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দুই দেশের আলোচনা শুরু হওয়ায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও সক্রিয় হয়েছে। তবে সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।