দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার একাধিক সংস্কার ও ডিজিটাল উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া অনলাইনে দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে রপ্তানি নীতি হালনাগাদ এবং নতুন আমদানি নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য একক সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এবং হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার জন্য সংস্কার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধন সেবাগুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হচ্ছে।

বিনিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য ও সেবা সহজলভ্য করতে বিডা ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার সহায়তায় ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি সেবা, লাইসেন্স ও অনুমোদনের তথ্য জানতে ও আবেদন করতে পারবেন।

অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, লজিস্টিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল কার্যকর করার কাজ এগিয়ে চলছে। লালদিয়া টার্মিনাল, বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ হবে এবং বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।