ছবি: -সংগৃহীত
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বর্তমানে এই সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন করমুক্ত আয়সীমা আগামী দুই অর্থবছর বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণির করদাতার জন্যও বাড়তি করসুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার করসুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন বাজেটে আয়করের হারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। করমুক্ত সীমার পর প্রথম এক লাখ টাকার ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ করহার বাতিল করা হয়েছে। এখন করমুক্ত সীমার পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
করদাতাদের জন্য সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সময়ভেদে প্রণোদনা ও অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের বিধান থাকবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে কোনো অতিরিক্ত সুবিধা বা জরিমানা থাকবে না।
অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, তা অতিরিক্ত দিতে হবে। এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, তা পরিশোধ করতে হবে।