https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শুধু শরীর-মনকে সতেজ রাখে না, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি বা অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সী নারী-পুরুষদের ক্ষেত্রে।
আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, অনিদ্রা, অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি এবং নিম্নমানের ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কোষ মেরামত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
গবেষকদের মতে, ঘুমের সময় শরীরে টিস্যু পুনর্গঠন, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নিয়মিত ঘুম ব্যাহত হলে এসব প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এই প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।
এছাড়া ঘুমের অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে দেয়। ফলে শরীরে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কোষগুলোকে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত ও ধ্বংস করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা ক্যান্সার বিকাশের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীরা এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা, পেরিমেনোপজ ও মেনোপজজনিত হরমোন পরিবর্তনের কারণে নারীদের ঘুমের মান বেশি প্রভাবিত হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যার নেতিবাচক প্রভাব তাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, অনিদ্রা সরাসরি ক্যান্সারের কারণ—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। বরং ঘুমের ঘাটতি ও ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করাও সুস্থ জীবনের অন্যতম প্রধান শর্ত। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যায় ভুগলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।