https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার দিকে এগিয়ে নিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশ এবং পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে একযোগে চালু হচ্ছে নানা কর্মসূচি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশব্যাপী শুরু হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে বিজ্ঞান প্রকল্প, উদ্ভাবনী ধারণা ও স্টার্টআপ আইডিয়া উপস্থাপন করছে।
মাউশির তথ্যমতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে নির্বাচিত দলগুলো জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে।
আগামী ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের সেরা ১০০টি দল তাদের প্রকল্প উপস্থাপন করবে। একই দিনে দেশব্যাপী ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে শুরু হবে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি, যার আওতায় শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেবে।
শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, পাঁচ কোটি দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে এই সবুজায়ন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধান খুঁজে বের করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক শেখার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে এসব কার্যক্রম শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী দলগুলোকে আর্থিক পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদেরও বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী অর্থনীতি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।