https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
কয়েক মাস আগেও জাতীয় দলের শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন ডেনিজ উন্দাভ। কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের প্রকাশ্য সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম প্রধান নায়ক এই স্ট্রাইকার।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে জোড়া গোল করে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন উন্দাভ। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২০১৪ সালের শিরোপা জয়ের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে জার্মানি।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র দুই ম্যাচে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। অর্থাৎ জার্মানির পাঁচটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো বদলি খেলোয়াড়ের এমন প্রভাব খুব কমই দেখা গেছে।
তবে এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা আরও বিস্ময়কর। একসময় বিশ্বকাপ খেলা ছিল তার কাছে প্রায় অসম্ভব এক স্বপ্ন। ১৪ বছর বয়সে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল ওয়ের্ডার ব্রেমেনের একাডেমি। উচ্চতা কম হওয়াকে কারণ দেখিয়ে বলা হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ নেই।
তবুও হার মানেননি উন্দাভ। ১৭ বছর বয়সে জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ফুটবল খেলতে শুরু করেন। সপ্তাহে সামান্য আয়ে জীবন চালাতে ফুটবলের পাশাপাশি একটি কারখানায় প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজ করতে হতো তাকে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়া, সেখান থেকে সরাসরি অনুশীলনে অংশ নেওয়া—এভাবেই চলেছে তার সংগ্রামের দিনগুলো।
পরে বেলজিয়ামের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। দলকে শীর্ষ লিগে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ধারাবাহিক গোল করে নজর কাড়েন ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটনের। যদিও প্রিমিয়ার লিগে খুব বেশি সফল হতে পারেননি, পরে জার্মান ক্লাব স্টুটগার্টে গিয়ে আবারও নিজেকে খুঁজে পান।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১৯ গোল করে শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সই তাকে বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে দেয়।
এখন পরিস্থিতি এমন যে, নাগেলসমানও তাকে শুরুর একাদশে রাখার কথা ভাবছেন। আইভরি কোস্ট ম্যাচের পর জার্মান কোচ বলেন, উন্দাভের দুর্দান্ত ছন্দ নষ্ট করার কোনো কারণ নেই। মাঠে নামলেই তিনি পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে উন্দাভ অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জয়ের পর তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল জিতেছে এবং পরের রাউন্ডে উঠেছে।
কারখানার শ্রমিক থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির অন্যতম ভরসায় পরিণত হওয়া উন্দাভের গল্প এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণার নাম। আর তার বর্তমান ফর্ম ধরে থাকলে জার্মানির পঞ্চম বিশ্বকাপ স্বপ্নে সবচেয়ে বড় অস্ত্রও হতে পারেন এই সংগ্রামী ফরোয়ার্ড।