দুই দশকেরও বেশি দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। ২০০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বের প্রায় সব বড় ফুটবল পরাশক্তির। কিন্তু অবাক করার মতো হলেও সত্যি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনোই মাঠে নামা হয়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
আগামী বুধবার আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এটিই হবে মেসির ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ।
বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডই একমাত্র দল, যার বিপক্ষে এতদিন খেলেননি মেসি। সর্বশেষ ২০০৫ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তখন মেসি সদ্য বার্সেলোনার মূল দলে নিজের জায়গা করে নিচ্ছিলেন এবং জাতীয় দলেও নিয়মিত ছিলেন না।
আসন্ন সেমিফাইনালকে বিশেষ ম্যাচ হিসেবে দেখছেন মেসি। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটাই হবে তার প্রথম ম্যাচ এবং ইংল্যান্ড ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই তিনি খেলেছেন। তার ভাষায়, ইংল্যান্ড একটি অসাধারণ দল এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে পারা সবসময়ই আনন্দের।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় লক্ষ্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। মেসির মতে, এটি একটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, যেখানে প্রতিপক্ষের নাম নয়, নিজেদের সেরা ফুটবল খেলাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের স্বাভাবিক খেলায় বিশ্বাস করে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ আজও দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সেই ম্যাচের প্রসঙ্গে মেসি বলেন, তিনি ঘটনাগুলো ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে দেখেছেন। আর্জেন্টিনার মানুষ এখনো সেই ম্যাচের স্মৃতি বয়ে বেড়ায়। তবে বর্তমান আর্জেন্টিনা দল অতীতের আবেগ নয়, নিজেদের খেলাতেই মনোযোগী।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মেসি। এখন পর্যন্ত তিনি করেছেন আট গোল, সঙ্গে রয়েছে দুটি অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে সমানতালে জ্বলে উঠেছেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। দুজনেরই ঝুলিতে রয়েছে ছয়টি করে গোল এবং একটি করে অ্যাসিস্ট।
যদিও ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে এটি হবে মেসির প্রথম ম্যাচ, ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে তার রেকর্ড ঈর্ষণীয়। ইউরোপীয় ক্লাব প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের বিভিন্ন দলের বিপক্ষে ৩৬ ম্যাচে তিনি করেছেন ২৭ গোল এবং ছয়টি অ্যাসিস্ট। বিশেষ করে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে তার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট, এই দুই দলের বিপক্ষেই তিনি করেছেন ১৬ গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তাই শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, অপেক্ষা এক নতুন অধ্যায়েরও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নেমে মেসি কি নিজের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

মন্তব্য করুন