ঢাকা
১৬ আগস্ট ২০২৬

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬   ৩৩ বার পঠিত
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ছবি: -সংগৃহীত

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডিত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন জানান, মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন।

রায়ে সাইফুর রহমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং পৃথক ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে আদালত উল্লেখ করেছেন, উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রবিউল হাসান (ইসলাম), মাহফুজ রহমান (মাসুম), আইনুদ্দিন (আইনুল) এবং মিসবাউল ইসলাম (রাজন)কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় ঘোষণার আগে বিচারক মামলার ৯১ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ পাঠ করেন।

এর আগে গত ৮ জুলাই উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী তরুণী ও তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, জবানবন্দি গ্রহণকারী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে নববিবাহিত এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে কয়েকজন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031