https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
কারিগরি বহির্ভূত বিদ্যুৎ অপচয় কমানো এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৮২৩টি প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে দেশের অধিকাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দেশের ৫ কোটিরও বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহককে ধাপে ধাপে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মিটারে কারসাজি, অবৈধ সংযোগ এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বর্তমানে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কারিগরি বহির্ভূত বিদ্যুতের ক্ষতি হয়। স্মার্ট প্রিপেইড মিটার এই অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে।
বিউবোর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা পর্যায়ক্রমে এসব মিটার স্থাপন করছে। এর মধ্যে বিউবো ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার ১২৬টি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ১৮ লাখ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৪টি, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৯ লাখ ১৬ হাজার ৯১০টি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৯ লাখ ১২ হাজার ২৩৩টি এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৩টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে।
পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি গ্রাহক গড়ে ৬৬১ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ২০ মে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়।
স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় গ্রাহকদের বিল পরিশোধ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা পুনঃসংযোগের ঝামেলা থাকে না। এতে কোনো ন্যূনতম চার্জ বা জামানত দিতে হয় না এবং বিতর্কিত বিলেরও সুযোগ কমে যায়।
এ ছাড়া এই মিটার ব্যবহারকারীরা বিদ্যুতের প্রচলিত মূল্যের ওপর ২ শতাংশ মূল্যছাড় পান। ব্যালেন্স কমে গেলে আগাম সতর্কবার্তা, জরুরি ঋণ সুবিধা, ভোল্টেজ ওঠানামা প্রতিরোধ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণের সুবিধাও রয়েছে।
সরকারের আশা, স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে অপচয় ও অনিয়ম কমার পাশাপাশি রাজস্ব আদায় আরও কার্যকর হবে।