https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭৫ ডলারের বেশি কমেছে। মঙ্গলবারের শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার আবারও দরপতন হওয়ায় বিশ্ববাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ২৫ দশমিক ১২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্টে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০ দশমিক ৪০ ডলারে।
এর মাত্র একদিন আগে মঙ্গলবার সোনার দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে দাম ৭৫ ডলারের বেশি কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের অবস্থান বদলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এবং ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো তেলের দাম বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলেও সোনার বাজারে প্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ানডার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন আগের মূল্যস্ফীতির তথ্যের চেয়ে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বাড়ছে, যা আর্থিক বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার-সংক্রান্ত প্রত্যাশাও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য ইতিবাচক হলেও সুদহার পরিবর্তনের বিষয়ে ফেড এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। বাজারের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) প্রকাশের দিকে, যা ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমে ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনো প্রায় ৮০ শতাংশ বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার রুপার দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৮ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২৮ দশমিক ৬ ডলারে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩১১ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে।