https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
শুরুর ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। সেই স্পেনকে দেখে খুব কম মানুষই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু এরপর যেন একেবারে বদলে যায় লা রোজারা। ম্যাচের পর ম্যাচ দাপট দেখিয়ে, গোলপোস্ট প্রায় অক্ষত রেখে তারা পৌঁছে যায় ফাইনালে। আর শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষায়ও সফল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে ইউরোপের এই পরাশক্তি।
নিউইয়র্ক–নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল স্পেনের আধিপত্য। পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। আরও বিস্ময়কর বিষয়, ১২০ মিনিটের পুরো ম্যাচে তারা লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে না পারার প্রথম দলও হয়ে গেল আলবিসেলেস্তেরা।
অন্যদিকে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিল না। এর প্রধান কারণ ছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। নির্ধারিত সময়েই অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন এই গোলকিপার।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণ শেষ পর্যন্ত লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে সপ্তম মিনিটে লিওনেল মেসি গোলের সুযোগের সামনে চলে এলেও দ্রুত এগিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
প্রথমার্ধজুড়ে ছিল স্পেনের একচ্ছত্র দাপট। ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে তারা আর্জেন্টিনার ওপর অবিরাম চাপ সৃষ্টি করে। লাপোর্তে, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল ও কুকুরেয়ার আক্রমণে বারবার কেঁপে ওঠে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। তবে প্রতিবারই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা শুধু বলের দখলেই পিছিয়ে ছিল না, লক্ষ্যে কোনো শটও নিতে পারেনি। স্পেনের ৩১৩টি সফল পাসের বিপরীতে তাদের ছিল মাত্র ১৫৫টি। ফাইনাল থার্ডে স্পেন প্রবেশ করেছে ৩৫ বার, যেখানে আর্জেন্টিনা মাত্র ১৮ বার।
বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। পারেদেস মাঠে নেমেই হলুদ কার্ড দেখেন। এরপরও স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। বায়েনা, ওলমো, ফেরান তোরেস, পেদ্রি ও ইয়ামাল একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও মার্টিনেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচ গোলশূন্যই থাকে।
শেষ দিকে স্পেনের আক্রমণ আরও তীব্র হয়। পেদ্রি, তোরেস, ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস ও লাপোর্তের একাধিক প্রচেষ্টা রুখে দেন মার্টিনেজ। অন্যদিকে ইনজুরি সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই একবার জাল খুঁজে পায় স্পেন। নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর ফাউলের কারণে গোল বাতিল করা হয়।
তবে হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ২৭ সেকেন্ড পর আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জোরালো শটে জাল কাঁপান বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। সেই এক গোলেই বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
এরপর আরও একবার গোল করেছিলেন তোরেস, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি-কিক থেকে আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার সুযোগ পেলেও জিউলিয়ানো সিমিওনে বলের স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণ আর ভাঙতে পারেনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শেষ বাঁশি বাজতেই উৎসবে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড়রা। হতাশায় ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ আসরের ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন, আর দাপুটে এক বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে।