https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশের চাওয়া অতিরিক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ব্যাখ্যা দু-এক দিনের মধ্যেই দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম একটি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
গত ১২ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরপর ১৬ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতীয় কেন্দ্রীয় ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠায় দুদক। এসব নথির মধ্যে ছিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার কাগজপত্র, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ এবং তদন্ত-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি।
আকতারুল ইসলাম বলেন, দুবাই পুলিশের চাওয়া ব্যাখ্যার পাশাপাশি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার নথি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
দুদক সূত্র জানায়, গত জুনে ইন্টারপোলের সহায়তায় পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়। এরপর দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করে দুদক। মাত্র দুই দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণপত্র দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
এর প্রায় এক মাস পর দুবাই পুলিশ বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নীতিগত সম্মতির কথা জানায়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রকৃতি, অভিযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চায়। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই এখন জবাব প্রস্তুত করছে দুদক।
আকতারুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দুবাই পুলিশের চাওয়া সব তথ্য ও ব্যাখ্যা পাঠানো হবে। এরপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে দুবাই কর্তৃপক্ষ।
দুদকের করা মামলাগুলোর মধ্যে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
দুদকের আশা, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নথিপত্র পাঠানোর পর বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাবে।
২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরে যান বেনজীর আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে প্রথম কর্মকর্তা, যিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।