https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের পর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে ৫ দশমিক ৯, ৫ দশমিক ৬ ও ৬ দশমিক ১ মাত্রার তিনটি শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মাউমেরে বন্দরে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। মাউমেরে ও আশপাশের এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সংস্থা। সংস্থাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দ্রুত সরে গিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার কর্মকর্তা আবদুল মুহারি ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল, দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণের দ্বীপগুলোসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিজ উদ্যোগে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উপকূল থেকে অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে অথবা ১০ মিটারের বেশি উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার হিসাবে, ফ্লোরেস দ্বীপে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ শক্তিশালী কম্পন অনুভব করে থাকতে পারেন। আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও পরাঘাতের আশঙ্কাও মূল্যায়ন করছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
এর আগে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে ফ্লোরেসে ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।