https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আজ ১০১ বছরে পা রেখেছেন। চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক—দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশটির অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।
১৯২৫ সালের ১০ জুলাই কেদাহ রাজ্যের আলোর সেটারে জন্মগ্রহণ করেন মাহাথির। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষে ১৯৫৩ সালে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবা চালু করেন। সেখান থেকেই ‘ডা. এম’ নামে পরিচিতি পান।
তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৪৬ সালে ইউনাইটেড মালয়াস ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এ যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৬৪ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রথম দফায় টানা ২২ বছর (১৯৮১-২০০৩) এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহাথির। মোট ২৪ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নেতা।
তার নেতৃত্বে কৃষিনির্ভর মালয়েশিয়া দ্রুত শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পুত্রাজায়া প্রশাসনিক নগরী এবং নর্থ-সাউথ এক্সপ্রেসওয়ের মতো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয় তার আমলে। ১৯৯১ সালে ঘোষিত ‘ভিশন ২০২০’-এর মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন তিনি।
তবে তার শাসনামল বিতর্কমুক্ত ছিল না। ভিন্নমত দমন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন লালাং’, ১৯৮৮ সালের বিচার বিভাগীয় সংকট এবং আনোয়ার ইব্রাহিমকে বরখাস্ত ও কারাবন্দি করার ঘটনা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
২০০৩ সালে ক্ষমতা ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে যাননি মাহাথির। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে ২০১৮ সালে ৯৪ বছর বয়সে আবারও নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০২০ সালে পদত্যাগ করেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে নিজের সংসদীয় আসনও হারান।
বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা সত্ত্বেও মাহাথির এখনো জনজীবনে সক্রিয়। নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে মতামত দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনে তিনি যেমন মালয়েশিয়ার উন্নয়নের প্রতীক, তেমনি রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দু। তবুও আধুনিক মালয়েশিয়া গঠনে তার ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।