রংপুরের পীরগঞ্জে ভোটার হওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে শওকত নামে এক রোহিঙ্গা যুবক আটক হয়েছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই দিন দুপুরে শওকত পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পরিচয়ে ভোটার হতে নির্বাচন কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার পরিচয় ও কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শওকত জানান, টেকনাফের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি পীরগঞ্জে আসেন। ওই ব্যক্তি তাকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেছিলেন। পরে ওই ব্যক্তিই তাকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল নম্বর মুছে দেন।

ফলে ওই ব্যক্তির নাম, পরিচয় বা ঠিকানা সম্পর্কে শওকত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

পাঁচগাছি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতান মন্ডল বলেন, শওকতের দাখিল করা কাগজপত্র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া হয়নি। এসব কাগজে তার স্বাক্ষর ও ইউনিয়ন পরিষদের সিল জাল করা হয়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান জানান, শওকতের আচরণ ও কথাবার্তায় শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাকে জাতীয় সংগীত বলতে বলা হলেও তিনি তা বলতে পারেননি। এতে তার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্য থেকেও রোহিঙ্গা পরিচয়ের বিষয়টি উঠে আসে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, আটক যুবককে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। টেকনাফ থেকে যে স্থানীয় ব্যক্তি তাকে পীরগঞ্জে নিয়ে এসেছেন, তাকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।