https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহ মোকাবিলায় অভিনব এক শীতলীকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে চীন। দেশটির উত্তরাঞ্চলের শানসি প্রদেশের ইউনচেং শহরের একটি আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে বিশেষ ‘মিস্টিং সিস্টেম’, যা বাতাসে সূক্ষ্ম পানির কণা ছড়িয়ে আশপাশের তাপমাত্রা কমাতে সহায়তা করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ছাদ থেকে ঘন পানির কুয়াশা নিচের দিকে নেমে এসে সড়ক ও হাঁটার পথ শীতল করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা তাপমাত্রার মধ্যে নগর এলাকায় তাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় হিসেবে প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে।
এই প্রযুক্তি ‘ইভাপোরেটিভ কুলিং’ বা বাষ্পীভবনজনিত শীতলীকরণ নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ছাদে স্থাপিত উচ্চচাপের নোজল থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম পানির কণা বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব কণা দ্রুত বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় আশপাশের বাতাস থেকে তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে স্থানীয় পরিবেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এটি অনেকটা মানুষের শরীরের ঘাম বাষ্পীভূত হয়ে শরীর ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়ার মতো।
চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে এই ব্যবস্থা কয়েক মিনিটের মধ্যেই আশপাশের বাতাস ও পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম।
পানির কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে গরম ও তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ায় দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ফলে পথচারীরা ভিজে না গিয়েও শীতলতার অনুভূতি পান।
প্রচলিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার তুলনায় এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুতের ব্যবহারও অনেক কম। কারণ এতে মূলত উচ্চচাপের পাম্প, নোজল এবং পানি ব্যবহার করা হয়, ভারী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।
শুধু ইউনচেং নয়, চীনের আরও কয়েকটি শহরে গ্রীষ্মকালে পার্ক, উন্মুক্ত চত্বর, পথচারী সড়ক ও বাসস্টপে একই ধরনের মিস্টিং সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চীনে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। পাশাপাশি ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের কারণে শহরের কংক্রিটের ভবন ও সড়ক বেশি তাপ শোষণ ও ধরে রাখায় নগরাঞ্চলের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় বেশি থাকে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই উদ্যোগকে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনমান উন্নয়নের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ পানি-সংকটপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যদিও প্রযুক্তিটির সমর্থকদের দাবি, পানির কণাগুলো প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বাষ্পে পরিণত হওয়ায় এতে তুলনামূলকভাবে খুব কম পানি খরচ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ছাদভিত্তিক ‘মিস্ট কুলিং’ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।