https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। শোকাবহ এই আয়োজনে আবেগঘন পরিবেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন উপস্থিত অনেকে। জনতার একটি অংশ খামেনির হত্যার প্রতিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শনিবার শুরু হওয়া জানাজায় অংশ নিতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তেহরানে জড়ো হন। ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির ছবি হাতে নিয়ে তারা প্রার্থনায় অংশ নেন। পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের পাশেই রাখা হয় একই হামলায় নিহত তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিন, যা উপস্থিত অনেককে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে।
জানাজাস্থলে উপস্থিত জনতার একাংশ ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেন। অনেকের হাতে ছিল প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত লাল পতাকা। তারা খামেনি হত্যার কঠোর জবাব দেওয়ার দাবি জানান।
পর্যবেক্ষকদের মতে, জাতীয় শোকের এই মুহূর্ত নতুন নেতৃত্বের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তারা দেশীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করা খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান ছয় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন শহরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আগামী শুক্রবার তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মাধ্যমে শেষ হবে রাষ্ট্রীয় এই শোকানুষ্ঠান।