https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া চলাকালেই দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও হামলা চালানো হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করা যায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকম বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, ইরান এখনো ওই তিনটি জাহাজে হামলার দায় স্বীকার বা অস্বীকার—কোনোটিই করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, হামলার সময় কেশম দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে এই সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।