https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
মার্কিন হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়ার পর নাজাফে অনুষ্ঠিত শোকযাত্রা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ শহরে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শোকমিছিলে মানুষের দীর্ঘ সারি শহরের প্রধান সড়কগুলো ভরে গেছে। নাজাফ থেকে মরদেহ কারবালায় নেওয়া হবে, যেখানে আরও একটি বৃহৎ ধর্মীয় শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, নাজাফের আল-কুফা সেতু থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান ইমাম আলী (আ.)-এর মাজারের দিকে অগ্রসর হয়।
নাজাফ ও কারবালায় আয়োজিত শোকানুষ্ঠান ঘিরে ইরাকি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ পরিচালনায় অভিজ্ঞ স্বেচ্ছাসেবকরাও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ইরানে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে দাফন-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মরদেহ ইরাকে নেওয়া হয়। বুধবার বাগদাদ, নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজারে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে ইরান ৩৯ দিনের মধ্যে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে শতাধিক হামলা চালায়।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সর্বশেষ আলোচনায় উভয় পক্ষ ৬০ দিনের একটি সমঝোতা কাঠামোয় সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হয়েছেন।