https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের তালিকায় নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির নির্মাণাধীন জেদ্দা টাওয়ার সম্পন্ন হলে এটি হবে বিশ্বের প্রথম এক কিলোমিটার উঁচু ভবন। এর মাধ্যমে ৮২৮ মিটার উচ্চতার বুর্জ খলিফার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে যাবে।
২০১০ সালে উদ্বোধনের পর দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা আধুনিক স্থাপত্যে নতুন যুগের সূচনা করেছিল। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে এখনও এর অবস্থান অটুট থাকলেও সেই শীর্ষস্থান দখলের অপেক্ষায় রয়েছে জেদ্দা টাওয়ার।
বিশ্বের এই দুই মেগা প্রকল্পের নকশার পেছনে রয়েছেন একই ব্যক্তি—মার্কিন স্থপতি আদ্রিয়ান স্মিথ। আকাশচুম্বী ভবনের নকশা তৈরিতে তিনি আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম প্রভাবশালী নাম।
১৯৬৭ সালে তিনি আন্তর্জাতিক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম)-এ যোগ দেন। প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি চীনের জিন মাও টাওয়ার, নানজিংয়ের জিফেং টাওয়ার এবং শিকাগোর ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনালের মতো বহুল পরিচিত স্থাপনার নকশা তৈরি করেন। তবে বুর্জ খলিফার নকশাই তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়। পরে ২০০৬ সালে তিনি নিজের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
বুর্জ খলিফার সাফল্যের অন্যতম রহস্য এর বিশেষ নকশা। ভবনের উচ্চতা যত বাড়ে, বাতাসের চাপও তত বৃদ্ধি পায়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আদ্রিয়ান স্মিথ আঞ্চলিক স্পাইডার লিলি ফুল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবনটির ‘ওয়াই’ আকৃতির নকশা তৈরি করেন।
নকশা অনুযায়ী, ভবনের তিনটি অংশ ধাপে ধাপে সরু হয়ে ওপরে উঠেছে। ফলে বাতাস একটানা একইভাবে ভবনে আঘাত করতে পারে না। প্রকৌশলীরা এই কৌশলকে ‘বাতাসকে বিভ্রান্ত করা’ বলে উল্লেখ করেন। এই উদ্ভাবনী নকশার কারণেই বুর্জ খলিফার মতো বিশাল স্থাপনাও তীব্র বাতাসের চাপ সহ্য করতে সক্ষম হয়েছে।
একই ধরনের উন্নত প্রকৌশল ও নকশা দর্শনের ধারাবাহিকতায় নির্মিত হচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার, যা সম্পন্ন হলে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে।