https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং আধুনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২২তম কার্যদিবসে এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর উত্থাপিত মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিটি উপজেলায় ৩০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে সেগুলো ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।
তিনি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এখন দেশের সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্টের শেষ দিকে দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ানোই নয়, প্রতিটি ১০১ শয্যার হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে আধুনিক প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে। এর ফলে গ্রামীণ জনগণকে রোগ নির্ণয়ের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।
তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হবে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরই ১০০টি হাসপাতালে ১০০টি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১০ ও ২০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার করে সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জনবল ও প্রয়োজনীয় শয্যা নিশ্চিত করার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু তাঁর উত্থাপিত সিদ্ধান্ত প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে প্রস্তাবের ওপর আরও ১০ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে অর্থের সংস্থান সাপেক্ষে জেলা পর্যায়ের ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় এবং ৫০০ শয্যার হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।