https://timenewsbangla.com

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার কৌশলগত অংশ। চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ করায় বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব তুলনামূলক কম অনুভব করেছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌর প্যানেল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা, সহজ ঋণ, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে সৌরবিদ্যুৎ খাতে দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অংশ প্রায় ৮৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে একাধিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণাধীন এবং নতুন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন, অব্যবহৃত সরকারি জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা প্রতিবছর বাড়ছে। তাই গ্যাস ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য উৎসের সম্প্রসারণই ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।